

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে পর্যটকদের পাহাড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সতর্ক করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সীতার পাহাড়ে চার পর্যটক আটকে পড়ার ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের কিন্নরী সভাকক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনা থানার প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। তবে কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে কিছুটা মাদক সমস্যা রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তারা জানান।
সভায় কাপ্তাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কবির হোসেন বলেন, গত ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে আসা চার পর্যটক কাপ্তাইয়ের সুউচ্চ সীতার পাহাড়ে উঠতে গিয়ে আটকে পড়েন। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চাইলে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বুনো হাতির বিচরণ থাকায় ওই পর্যটকদের বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় ওঠার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পর্যটকদের সতর্ক করতে পাহাড়ের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশনা দেন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াতের বিষয়ে নৌকা ও সাম্পান মাঝিদের অবগত করার জন্য সভার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেলী রুদ্র, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহলা অং মারমা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন মামুন, কাপ্তাই জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ হারুনুর রশীদসহ মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।