

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেছেন, জনগণের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আগামী দুই মাসের মধ্যে রাঙামাটিকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব। মাদক নির্মূলে দলীয় বা রাজনৈতিক কোনো প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাঙামাটি জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘মাদককে প্রতিরোধ করি, যুব সমাজকে রক্ষা করি’—এই স্লোগানে আয়োজিত মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম বিষয় ছিল মাদক নির্মূল করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে আইনের ফাঁক দিয়ে জামিন পেয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য মাদক আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব সহ্য করা হবে না। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করলে আগামী দুই মাসের মধ্যে রাঙামাটিকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।”
মাদক নির্মূলে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে আইনজীবীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, মাদক প্রতিরোধ একটি বড় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে শুধু পুলিশের পক্ষে একা সফল হওয়া সম্ভব নয়। পুলিশ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূল করা গেলে সমাজে অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। মাদক অনেক অপরাধের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে মাদক নির্মূলে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি সদর সেনা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত এবং রাঙামাটি জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ।
এ সময় বক্তব্য দেন রাঙামাটি কমিউনিটি পুলিশের সহ-সভাপতি নব জ্যোতি খীসা, রাঙামাটি ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা এবিএম তোফায়েল উদ্দিন, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক এবং শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান।
বক্তারা মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
এর আগে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ উপলক্ষে তবলছড়ি মিনিস্ট্রিয়াল ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে পুলিশ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ। রাঙামাটির তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সুধী সমাবেশের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।