
মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা-২০২৬ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উৎসব আয়োজন নিয়ে দুটি কমিটির মতবিরোধের কথা তুলে ধরে ছয় দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বান্দরবান জেলা উৎসব উদযাপন পরিষদ।
বৃহস্পতিবার ২২অক্টোবর সকাল ১১টায় বান্দরবান প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি উচ নু মং মার্মা। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে ঘিরে জেলায় বিদ্যমান দুটি কমিটির মধ্যে মতবিরোধ নিরসনে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় সমন্বিতভাবে উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অপর পক্ষ সমন্বিত সিদ্ধান্তে সম্মত না হওয়ায় একই উৎসবকে কেন্দ্র করে পৃথক কর্মসূচি পালনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আয়োজন চলবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১ অক্টোবর বিকেল ৩টায় হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর বিকেল ৩টায় টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২৫ অক্টোবর সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে কমলং থেকে রাজা মাঠ পর্যন্ত ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। একই দিন বিকেল ৩টায় দায়ক-দায়িকা ও সর্বসাধারণের পূজা-অর্চনার উদ্দেশ্যে মঙ্গল রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
২৬ অক্টোবর বিকেল ৪টায় পুরাতন রাজবাড়ী প্রাঙ্গণ থেকে রথযাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রথযাত্রাটি রাজগুরু বৌদ্ধবিহার (খংওয়াক্যং) ও উজানী পাড়া রাজগুরু বৌদ্ধবিহার (থিহ্যইক্যং) অভিমুখে পরিচালিত হবে। সেখানে দায়ক-দায়িকা ও উপাসক-উপাসিকারা পূজা-অর্চনা করবেন। পরে পাড়া ও শহর প্রদক্ষিণ শেষে উজানী পাড়া বৌদ্ধবিহারে রথ উৎসবের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা শেষ হবে।
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া কর্মসূচির তথ্যে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় রাজগুরু বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন ও চুলামণি জাদির উদ্দেশ্যে ফানুস উত্তোলন এবং সন্ধ্যা ৭টায় বিভিন্ন পাড়ার অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরির উৎসব আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উ ক্য সিং মার্মা, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং উৎসব উদযাপন পরিষদের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে উৎসবের সার্বিক সফলতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।