

'সকল ঈদের সেরা ঈদ, ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বান্দরবানের কুহালং বটতলীতে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার ২নং কুহালং ইউনিয়নের বটতলী গাউসিয়া তাহেরিয়া ছাবেরিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা মাঠে এ আয়োজন করা হয়।
বটতলী গাউসিয়া তাহেরিয়া ছাবেরিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, কুহালং ইউনিয়ন শাখা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম আর-রেযা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ হাছান রেজা আল-কাদেরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম পটিয়া শাহী জামে মসজিদের খতিব হযরত শাহসুফী নূরউদ্দীন শাহ (রহ.), গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মো. আসহাব উদ্দিন চৌধুরী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তমিজ উদ্দীন চৌধুরী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার জমিদাতা আব্দুল মোমেন, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম, বটতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. আবু ইউছুপ জিলানী, তৈয়্যবিয়া আজিজিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নাজিম উদ্দিন, মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল ইসলাম রেজভীসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)-এর তাৎপর্য এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিকতা, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে অস্থিরতা, হিংসা, বিদ্বেষ ও নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের বিকল্প নেই। তাঁর শিক্ষা মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ক্ষমাশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে পারে।
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং সবার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও গাউসিয়া কমিটির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)-এর আয়োজন শেষ হয়।