মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ ৮ দফা দাবিতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের স্মারকলিপি

প্রতিবেদক: মো. আরিফুল হক
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে
Oplus_131072

Oplus_131072

মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতসহ ৮ দফা দাবিতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বি, ইব্রাহীম রুবেল, মো. শরিফ ও মো. আশরাফুল, সদস্য মো. আল আমিন, মো. রায়ন চৌধুরী শুভ, মো. দেলাওয়ার, মো. আরিফসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আইন, সরকারি প্রজ্ঞাপন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

এতে ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলা পরিষদসমূহে পাঠানো আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতসংবলিত ব্যাখ্যার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, ওই ব্যাখ্যা অনুযায়ী জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর অধীনে পৃথকভাবে কোনো পদ সংরক্ষণের সুযোগ নেই। যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ‘অগ্রাধিকার’-এর বিধান থাকলেও তা মেধার ঊর্ধ্বে নয় এবং অগ্রাধিকার কেবল সমযোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখের সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে জেলা পরিষদের নিয়োগে নির্ধারিত মেধা ও কোটার কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে ৮ দফা দাবি

১। আইন মন্ত্রণালয়ের ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের ব্যাখ্যা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখের সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে জেলা পরিষদের অধীন সকল নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

২। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের স্থগিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করে সম্পন্ন করতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৩। শিক্ষক নিয়োগসহ জেলা পরিষদের সকল নিয়োগে প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য, পক্ষপাত বা অনিয়মের সুযোগ রাখা যাবে না।

৪। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়ম রোধে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫। প্রস্তুতকৃত প্রশ্নপত্র জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ট্রেজারিতে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরীক্ষা শুরুর পূর্বে তা পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করতে হবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের কার্যকর তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে।

৭। নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণার পূর্বেই উপজেলাভিত্তিক কোটার বিস্তারিত বিবরণ ও প্রযোজ্য নীতিমালা স্পষ্টভাবে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে, যাতে প্রার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না থাকে।

৮। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর, নাম, পিতার নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা প্রকাশ করতে হবে।

বয়সসীমা অতিক্রমকারীদের পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার দাবি

স্মারকলিপি প্রদানকালে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম মৌখিকভাবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির পর নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে যারা আবেদন করেছিলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত থাকায় তাদের অনেকেরই বর্তমানে সরকারি চাকরিতে আবেদনের নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নিয়োগ কর্তৃপক্ষের কারণে পরীক্ষা বিলম্বিত হওয়ায় এসব বৈধ আবেদনকারী যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যারা নির্ধারিত সময়ে বৈধভাবে আবেদন করেছিলেন, পরবর্তীতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত থাকার কারণে বয়সসীমা অতিক্রম করলেও তাদের ওই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিষয়টিকে যৌক্তিক দাবি হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি এ ধরনের আবেদনকারীদের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও মত দেন।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উত্থাপিত দাবিগুলোকে যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

এ সময় কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ অতীতের বিভিন্ন নিয়োগ ও জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে ঘিরে উত্থাপিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও বৈষম্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে ভবিষ্যতে জেলা পরিষদের সকল নিয়োগ ও কার্যক্রম স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও অনিয়মমুক্তভাবে পরিচালনার দাবি জানান।

তারা বলেন, কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করা কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার হরণ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের মূল দাবি হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগ, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়সংগত সুযোগ নিশ্চিত করা।

কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাসহ অন্যান্য নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা বিলম্বের কারণে বয়সসীমা অতিক্রমের ঝুঁকিতে থাকা বৈধ আবেদনকারীদের বিষয়টিও মানবিক ও ন্যায়সংগতভাবে সমাধান করা হবে।