

মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে একজন মানুষ। বিপদের সময়ে জাতি, ধর্ম কিংবা সম্প্রদায়ের বিভেদ ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতার পরিচয়। পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার এমনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়।
দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের একসময়ের মেধাবী শিক্ষার্থী রিঙ্কু চাকমা আজ কঠিন সময় পার করছেন। একটি সাধারণ জ্বরের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রিঙ্কুর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে পরিবারটি এখন আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।
সাধারণ জ্বর থেকে বদলে গেল জীবন
উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন রিঙ্কু। দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজে পড়ার সময় মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। পরিবারও স্বপ্ন দেখেছিল, একদিন রিঙ্কু নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবেন।
কিন্তু হঠাৎ একটি সাধারণ জ্বর তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। জ্বর থেকে সেরে ওঠার পর ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি স্বাভাবিক মানসিক ভারসাম্য ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
যে তরুণের হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল যার দিন-রাত আজ সেই রিঙ্কুই পরিবারের অসহায়ত্বের কারণে ঘরবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।
শিকলে বাঁধা সন্তান বাবা-মায়ের অসহায়ত্বের নির্মম চিত্র
রিঙ্কুর বর্তমান অবস্থার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কখনো কখনো তাঁকে শিকলে বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তাঁর বাবা-মা।
সন্তানকে শিকলে বেঁধে রাখা কোনো বাবা-মায়ের কাছে আনন্দের বিষয় নয়। এটি তাঁদের ভালোবাসার অভাব নয়, বরং চরম অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ। সন্তানের এমন অবস্থা দেখে প্রতিদিনই চোখের পানি ফেলছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের প্রত্যাশা উন্নত ও সঠিক চিকিৎসা পেলে রিঙ্কু আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে ভর্তি
রিঙ্কুর মানসিক চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তাঁকে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ জোগাড় করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাশে দাঁড়িয়েছে পাহাড়ি-বাঙালি
রিঙ্কুর অসহায়ত্বের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে অনেকেই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বিভেদ ভুলে একজন অসুস্থ তরুণের চিকিৎসায় মানুষের এমন সম্মিলিত উদ্যোগ সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।