ফরেস্ট রোড ও কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় ময়লার স্তূপ: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

প্রতিবেদক: মো: ফয়সাল
প্রকাশ: ১ মাস আগে

​রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপা ফরেস্ট রোড এবং এর সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে ফেলা হচ্ছে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক বর্জ্য। জনবহুল এই এলাকায় ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী শত শত শিক্ষার্থী। পরিবেশ দূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীরা।

​নিত্যদিনের দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

​বনরূপা ফরেস্ট রোড শহরের অন্যতম ব্যস্ত একটি সড়ক। এই রাস্তাটি ব্যবহার করে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। এছাড়া কবরস্থান সংলগ্ন হওয়ায় প্রায়ই মানুষের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় এই এলাকাটিতে ভিড় থাকে। ময়লার ভাগাড় থেকে নির্গত দুর্গন্ধ আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলাচল এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, দিনের পর দিন এখানে ময়লা ফেলায় তা স্তূপাকারে জমা হয়েছে। গরম বাড়ার সাথে সাথে এই ময়লার পচন ধরে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হচ্ছে এবং আশপাশের বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

​শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

রাস্তায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন স্কুলের পোশাক পরে এই নোংরা এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে তাদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। দুর্গন্ধের কারণে নাক চেপে পথ চলতে গিয়ে প্রায়ই তারা অসুস্থ বোধ করেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই পথ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাই। এটি কেবল পরিবেশ দূষণ নয়, আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। দ্রুত এই ময়লা সরিয়ে ফেলার জন্য আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

​সচেতন মহলের দাবি

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে, যা রাঙামাটির মতো একটি পর্যটন ও শান্তিপুর্ণ শহরের জন্য মোটেও কাম্য নয়। কবরস্থানের মতো একটি স্পর্শকাতর ও পবিত্র জায়গার পাশে এভাবে বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক বলেও তারা মন্তব্য করেন।

​অবিলম্বে বনরূপা ফরেস্ট রোড ও কবরস্থান সংলগ্ন এলাকা থেকে ময়লার স্তূপ অপসারণ করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। একই সাথে, ময়লা ফেলার জন্য বিকল্প কোনো সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।