কাপ্তাইয়ের ভাঙ্গামুড়া, হরিণছড়া ও আমতলী এলাকায় পাহাড়ধস কবলিত এলাকা পরিদর্শন

প্রতিবেদক: মো: জয়নাল আবেদীন
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

মো জয়নাল আবেদীন কাপ্তাই প্রতিনিধি ।

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ধসপ্রবণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবীরা। সম্প্রতি টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ধস ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সমস্যার কথা জানার উদ্দেশ্যে এ পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনের প্রথম ধাপে ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মিস ভানুমতি চাকমা এবং ভাঙ্গামুড়া পাড়ার সমাজকর্মী বাবু আনন্দ জয় তঞ্চঙ্গ্যা নেতৃত্ব দেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো খোঁজখবর নেন।

দ্বিতীয় ধাপে হরিণছড়া পাড়া পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দা উচিংমা মার্মা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও পাহাড়ধসের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মিস ভানুমতি চাকমা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার কথা জানান।

এলাকাবাসীর মধ্যে উক্রাঞো মার্মা জানান, পাহাড়ধসের ফলে তার বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে উশৈম্রা মার্মা বলেন, তার বাড়ির পাশের মাটির দেয়াল ভেঙে পড়েছে এবং বসতভিটার চারপাশে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে আলুমং মার্মাও পাহাড়ধসজনিত ঝুঁকি ও দুর্ভোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পরবর্তীতে প্রতিনিধি দল আমতলী বেচারাম কার্বারী পাড়া পরিদর্শন করেন। সেখানে কার্বারী বাবু বসন্ত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা পাহাড়ধসের কারণে পাড়াবাসীর ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানান। এ সময় স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মিস ভানুমতি চাকমা এবং বাবু অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা পাহাড়ধস কবলিত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা, নিরাপদ পুনর্বাসন এবং স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

এলাকাবাসীরা জানান, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জানমাল ও সম্পদের আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।