Oplus_131072

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বন বিভাগের বিট অফিস এলাকায় অবস্থিত ‘দারুস সালাম নূরানী মাদ্রাসা’ ভবনটি পাহাড়ি ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে করে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে মাদ্রাসা ভবনের ঠিক সংলগ্ন পাহাড়ের কিছু অংশে ধস নেমেছে। এতে করে যেকোনো মুহূর্তে পুরো ভবনটি ধসে পড়ার বা ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সীমিত অবকাঠামো ও নানা সংকটের মধ্যেও চারজন শিক্ষকের পরিচালনায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে কয়েকটি শিফটে এখানে পাঠদান করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার শিশুদের ইসলামিক ও নৈতিক শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমান প্রাকৃতিক ঝুঁকিতে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
মাদ্রাসার সার্বিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিরসনে সংশ্লিষ্টরা জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন:
মাদ্রাসা প্রশাসন: দারুস সালাম নূরানী মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণসহ একটি টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার মানও উন্নত হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি: ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার আবুল হাসেম জানান, মাদ্রাসাটির সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে পাহাড়ি ধসের ঝুঁকি থেকে ভবনটি রক্ষা পাবে।
মসজিদ কমিটি: মসজিদ কমিটির সভাপতি এম আর হোসাইন জহির জানান, মাদ্রাসার টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা ঊর্ধ্বমুখী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছেন।
স্থানীয় অধিবাসীদের জোরালো দাবি—আসন্ন বর্ষা মৌসুমের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ, পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষা ও মাদ্রাসা ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।