
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আবারো মানবিক ও উন্নয়নমূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার কংলাই-কাইথন স্কুল মাঠে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাকলাইপাড়া এলাকার অধিবাসীদের হাতে সেনাবাহিনীর অর্থায়নে সংগৃহীত ২টি ঐতিহ্যবাহী ‘চাঁদের গাড়ি’ হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বনির্ভরতা ও টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করতে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম দুর্গম এলাকা বাকলাইপাড়ার অধিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছিলেন।
আজকের হস্তান্তরিত এই দুটি চাঁদের গাড়ি পাড়াবাসীর জীবনে আশীর্বাদ হয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এর মাধ্যমে
কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য জুম-পণ্য এখন খুব সহজেই ও দ্রুততম সময়ে জেলা বা উপজেলা সদরের বাজারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
যেমন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা: কোনো গর্ভবতী নারী, প্রবীণ বা মুমূর্ষু রোগীকে অতি দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাবে।
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: গাড়ি পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শান্তি ও সহায়তার অঙ্গীকার:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শুধু শান্তি ও নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং স্থানীয় জনসাধারণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পেশাদারিত্বের সাথে এই মানবিক সহায়তার ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাহাড়িদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। দীর্ঘদিনের যাতায়াত বিড়ম্বনা কাটিয়ে নতুন আলোয় ডানা মেলবে বাকলাইপাড়ার অর্থনীতির চাকা; এমনটাই প্রত্যাশা সবার।