দুর্গম পাহাড়ি পথে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ৭ মাসের শিশুর মৃত্যু

প্রতিবেদক: অহিদুল ইসলাম অভি
প্রকাশ: ১ দিন আগে

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম দোসর হাতিমারা ছড়া গ্রামে অসুস্থ হয়ে পড়া সাত মাস বয়সী এক শিশুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধার প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু আদর্শ চাকমা দোসর হাতিমারা ছড়া গ্রামের বাসিন্দা মান্তু চাকমা ও রিপিকা চাকমা দম্পতির সন্তান। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে উপজেলা সদরে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়। দীর্ঘ পথ ও প্রতিকূল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে পথিমধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

পরিবারের দাবি, সন্তানকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব না হওয়ায় তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দোসর এলাকায় একটি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয় না। তাদের ভাষ্য, এ কারণে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও রোগীদের উপজেলা সদর বা জেলা শহরের হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত থাকলে শিশুটির জীবন রক্ষার সম্ভাবনা থাকতে পারত।

তবে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটি নিউমোনিয়া বা শ্বাসতন্ত্রজনিত কোনো জটিলতায় ভুগছিল। তবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ঘটনার পর এলাকাবাসী দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা চালু এবং পার্বত্য এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা গ্রহণ।