
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে গত এক মাসে প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি, শতাধিক বিঘা আবাদি জমি ও আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গমের চরসহ আশপাশের এলাকা। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষার ভারী বৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোত এবং ভারতের ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার ফলে পদ্মায় এই ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার প্রায় ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিজিবি ক্যাম্প ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। গত পাঁচ বছরে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে সহস্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে এবং আনুমানিক প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর পূর্ব তীরে ভাঙন রোধে ৭৪৮ কোটি টাকার একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। এর দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবে। এছাড়া নদীর পশ্চিম তীরেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।