লংগদুতে  ভূমিদস্যুর শাহ আলমের বিরুদ্ধে  ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানববন্ধন 

প্রতিবেদক: এরশাদ আলী
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

রাঙ্গামাটির লংগদুতে দীর্ঘদিন যাবত নিজের পরিবার ও এলাকাবাসীকে জাল জালিয়াতি মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি ও মিথ্যা মামলায় অতিষ্ঠ করে আসছে স্থানীয় শাহ আলম (মিস্ত্রী) নামক এক ভূমিখেকো। তার প্রতিবাদে ভূমিদস্যু শাহ আলম ও তার ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার মা,ভাই এবং  এলাকার আটটি পরিবারের সদস্যরা।  

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার)  সকাল ১১টায় ভুক্তভোগী পরিবারবর্গের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে লংগদু প্রেসক্লাবে এই  সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। 

সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলমের মা ও ভাই মামুন বলেন, ভূমিদস্যু শাহ আলম (প্রকাশ আইনজীবী শাহ আলম), পিতা- ওবায়দুল হক।  মুসলিমব্লকে নিজের মা ও ভাই বোনদের জায়গা নিজের নামে জাল জলিয়াতির মাধ্যমে কাগজ করে নিয়ে গেছে। অথচ জায়গাটিতে আমাদের পরিবারের দশজন ভাই-বোন সকলেরই হক রয়েছে।  সে জালিয়াতি করে উল্টো আমাদের নামে মামলা-হামলা করে বেড়াচ্ছে। এসব বিষয়ে শাহ আলমের দায়েরকৃত মামলার উপর তদন্ত আসলে, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা কাগজপত্র দেখে ভুক্তভোগীদের পক্ষে রায় দেয়। তারপরেও তার মিথ্যা অভিযোগ আর হয়রানি এখনো পর্যন্ত থামেনি। প্রতিনিয়ত প্রাণ নাসের হুমকি ও জমি-জামা জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে ইবনে-সিনা (সাবেক রাবেতা) হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লংগদু এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম বলেন, শাহ আলম শুধু নিজের পরিবারের সাথে নয়,আমাদের প্রতিষ্ঠানের জায়গা পর্যন্ত নিজের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজ করে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও তেমন সুরাহা পাচ্ছিনা। ভুমি খেকো শাহ আলম থেকে বাঁচা এখন সময়ের দাবী। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

ভুক্তভোগী রুহুল আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সর্বপ্রথম আমার বাবার রেকর্ডীয় জমি দখলের মাধ্যমে শাহ আলম এলাকায় উশৃংখলতা শুরু করেছে। তিনি জাকির মোল্লা নামে একজনকে সাথে নিয়ে সাধারণ মানুষের জায়গা হাতিয়ে নিচ্ছে। শাহ আলম জায়গা খুঁজে আর জাকির মোল্লা কাগজপত্র তৈরী করে ভূমি ব্যবসা শুরু করেছে। তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ে শাহ আলমকে গ্রেফতার করে আইনের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হোক। 

সংবাদ সম্মেলনে হেডম্যান ও শিক্ষক মীর সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি একজন মৌজা হেডম্যান হলেও শাহ আলম আমার আমার নানা আমির আলী শিকদারের নামায় বি-ফর্মের জায়গাটি জালিয়াতি কাগজ করে নেয়। অথচ আমাদের জায়গায় আমি আম বাগান করে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত ভোগদখল করিয়া আসিতেছি। এখন হঠাৎ করে শুনি এই জায়গার মালিক শাহ আলম। তারা কি ভাবে এধরণের জাল জালিয়াতি  কাগজ করে সেটা আমার বুঝে আসেনা। দ্রুত সময়ে জালিয়াতি কাগজ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা থেকে মুক্তি দিতে তিনি প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক এক সেনা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করে  বলেন, শাহ আলম একটি প্রতিষ্ঠানসহ আটটি পরিবারের জায়গা স্যূট কবুলিয়ত করে কাগজ করে নিয়ে আমাদের নামে মামলা-হামলা সহ জোর করে দখলের চেষ্টা করছে। আমরা এর সুষ্ঠু  তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করছি।