
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পেকুয়া ও চাকুয়াপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কসহ মৌলিক নাগরিক সেবায় নানা সংকট বিরাজ করছে। বিশেষ করে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অসুস্থ রোগীদের কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।
একটি বিহারও আছে নির্মমনের ব্যবহৃত সিমেন্ট বালু দিয়ে যুক্তিতে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পেকুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা-জানালার অবস্থাও নাজুক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
পেকুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বশীল মাসাইচিং মারমা জানান, ক্লিনিক ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় স্থানীয় মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে নানা সমস্যায় পড়ছেন। অসুস্থ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে গিয়ে সময় ও অর্থ—দুই-ই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় ৩২৬ নম্বর পেকুয়া চাকুয়াপাড়া হেডম্যান মিসেস সানুচিং মারমা বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও নেটওয়ার্ক—প্রায় সব ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে সড়ক ও সেতুর অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।
তিনি বলেন, এলাকার কোনো মানুষ গুরুতর অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় রোগীকে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়। ভাঙা সেতু ও কাঁচা সড়কের কারণে এ দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন ও যোগাযোগ করেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় কারবারি উচসু মারমা, উসাচিং কারবারী ও মংসুই কারবারী এবং পেকুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লাব্রেঅং মারমা জানান, তাদের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ সরকারি সব ধরনের মৌলিক সেবা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না। দ্রুত সড়ক ও সেতু সংস্কার, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে, পেকুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, শিক্ষক নিয়োগ হলে ওই এলাকায় আরও শিক্ষক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়েশ্লিমং মারমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্গম এই জনপদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ভাঙা সেতু ও সড়ক সংস্কার এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।