
রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের হোটেল নাদিশায় বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় হোটেল নাদিশায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে নবগঠিত রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক প্রিয় চাকমা।
এ সময় যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সুজন কামাল, রকিব হোসেন, পারভেজ সুমন, শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদুল ইসলাম শাকিলসহ নবগঠিত কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচয় তুলে ধরা হয় এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অ্যাডভোকেট সুজন কামালের বক্তব্য বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।
রাঙামাটি জেলা কমিটির নবগঠিত দায়িত্ব আমাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি একটি বড় দায়িত্বও।আমরা দলকে শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই।
ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে।সাধারণ মানুষের সমস্যা, নাগরিক অধিকার ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই।
দুর্নীতি, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ও গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলব।কোনো ব্যক্তির স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
প্রেস কনফারেন্সে জেলা কমিটির আহ্বায়ক প্রিয় চাকমা বলেন,বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই দায়িত্বকে আমরা কোনো পদ-পদবি হিসেবে নয়, বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে দেখতে চাই।রাঙামাটির সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দলকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত কমিটি গঠন করা হবে।
তরুণ সমাজকে সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে নতুন নেতৃত্ব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনগণের অধিকার, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করতে চাই।
যেখানে দুর্নীতি ও অনিয়ম হবে, সেখানে দলীয়ভাবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।
রাঙামাটির পাহাড়ি-বাঙালি সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আমরা ভূমিকা রাখতে চাই।
আগামী দিনে সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় নেতৃবৃন্দ সংগঠনের কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।