Oplus_131072

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে পিতৃত্বের এক অনন্য ও হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফালান মিয়া (৩০) নামের এক জেলে। দীর্ঘ সময় পানিতে ভেসে থেকে নিজের ৮-৯ বছরের সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করালেও শেষ পর্যন্ত নিজে আর বেঁচে ফিরতে পারেননি তিনি।
মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লংগদুর গুলশাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট মাহিল্যা গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহাবুদ্দিনের ছেলে ফালান মিয়া পেশায় একজন জেলে। ঘটনার দিন তিনি মাছ ধরার ছোট বোটে করে সার কিনে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। বোটটিতে তাঁর সঙ্গে ছিল তাঁর আট-নয় বছরের শিশুপুত্র।
পথিমধ্যে কালাপাকুজ্যা ও গুলশাখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ১৪ নম্বর বিলে পৌঁছালে আকস্মিক ঝোড়ো বাতাস ও ঢেউয়ের কব পড়ে তাদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়।
মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা ও চরম আত্মত্যাগ
নৌকা ডুবে যাওয়ার পর প্রচণ্ড স্রোত ও গভীর জলের সঙ্গে লড়াই শুরু করেন ফালান মিয়া। জীবন বাজি রেখে তিনি তাঁর শিশুসন্তানকে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে দুই হাতে বুক আগলে রাখেন। এভাবে দীর্ঘ সময় তাঁরা পানিতে ভেসে থাকেন।
পরবর্তীতে ওই বিলের মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য একটি ট্রলার বা বোটের যাত্রীরা তাদের ভাসতে দেখতে পান। দ্রুত এগিয়ে এসে তারা ফালান মিয়ার ছোট ছেলেকে নিরাপদে তাদের বোটে তুলে নেন। কিন্তু সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্তেই ফালান মিয়া শারীরিক শক্তি হারিয়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।
১৬ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়রা ও স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খবর পেয়ে লংগদু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় ১৬ ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও সদস্যরা ১৪ নম্বর বিলের পানি থেকে ফালান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।
শোকের ছায়া
সন্তানকে বাঁচাতে বাবার এমন বুকভাঙ্গা আত্মত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো লংগদু জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা ফালান মিয়ার এই মহান আত্মত্যাগকে স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকার্ত পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ফালান মিয়ার এই ত্যাগের গল্প এখন মানুষের মুখে মুখে, যা স্মরণ করিয়ে দেয় সন্তানের প্রতি একজন পিতার অকৃত্রিম ও চিরন্তন ভালোবাসার কথা।