৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কাউখালীতে উন্নয়নকাজ বন্ধ, হামলায় আহত কয়েকজন

প্রতিবেদক: মো নাজিম আলী
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে
oplus_0

oplus_0

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় সরকারি উন্নয়নকাজে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দেওয়া, কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং চলমান উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাঙামাটি শহরের বনরূপা বিএম মার্কেটের তৃতীয় তলায় ক্যাফে লিংক কফি হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সাপ্লায়ার প্রতিষ্ঠান এমএস এন্টারপ্রাইজের সদস্যরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি কাউখালী উপজেলার ৪ নম্বর কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন।

লিখিত বক্তব্যে ইসমাইল হোসেন বলেন, কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সরকারি উন্নয়নকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈধ লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে তিনি নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করে আসছিলেন। সরকারি নিয়ম-কানুন মেনেই এসব মালামাল সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে তার অভিযোগ, একটি চক্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ওই বৈধ কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। চক্রটির কয়েকজন সদস্য নিজেদের বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক পরিচয় দিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় চলমান উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইসমাইল হোসেনের দাবি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চাঁদা না দিলে কোনো কাজ চলবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া কাউখালী উপজেলায় বাইরের কোনো ঠিকাদার কাজ করতে চাইলে তাদের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ করতে হবে বলেও ওই ব্যক্তি মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম, কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাছির এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ইসমাইল হোসেনকে না পেয়ে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আহতদের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় কোনো অপরাধের লাইসেন্স হতে পারে না। কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানান। 

তিনি আরও বলেন,কয়েকজন ব্যক্তির অপকর্মের দায় কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর বর্তায় না। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দেরও উচিত তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

আমরা কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা শুধু আমাদের বৈধ কাজটি করতে চাই। শ্রমিক-কর্মচারীরা যেন আতঙ্কের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি উন্নয়নকাজ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। রাজনৈতিক প্রভাব, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি কিংবা হামলার কারণে সরকারি উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

এ সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত করা, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চলমান উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না এবং কারও বিরুদ্ধে অন্যায় প্রতিশোধও চান না। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই তাদের প্রত্যাশা।

তারা আরও বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজে কোনো অনিয়ম বা অপরাধের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা ভয়ভীতির কারণে উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, কাউখালী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক আরমান, কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, ছাত্রনেতা মেহেরাজ সরকার রাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তবে সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হুমকি, উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দেওয়া ও হামলার অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।