
রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার রামহরিপাড়ায় পৌঁছেছে ট্র্যোমান খীসার মরদেহ।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁর মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ট্র্যোমান খীসাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌ কর্মকর্তা ও নৌসেনারা উপস্থিত ছিলেন। গার্ড অব অনার শেষে ট্রোমান খীসার সম্মানে গান ফায়ার স্যালুট প্রদান করে নৌবাহিনীর সদস্যরা।
এছাড়া অনুষ্ঠানে নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা, বুড়িঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা, ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমল কান্তি চাকমাসহ স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ট্র্যোমান খীসার মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে রামহরিপাড়ায় স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় বাড়তে থাকে। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ।
স্থানীয়রা জানান, ট্র্যোমান খীসার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
এদিকে নৌবাহিনীর গার্ড অব অনার শেষে অবসরপ্রাপ্ত সশত্রবাহিনী কল্যাণ পরিষদ, মহাপূরম উচ্চ বিদ্যালয় ও নৌবাহিনীতে কর্মরত পাহাড়ের সকল সদস্যবৃন্দের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়।
এরপর প্রায়ত ট্রোম্যান খীসা এর স্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও জাতিসংঘের পতাকা, ক্যাপ ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য ট্র্যোমান খীসা নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের রামহরিপাড়া এলাকার সুবিমল খীসা ও গঙ্গা দেবী চাকমার সন্তান। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যান। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ট্রোমান খীসার মৃত্যু হয়। তিনি নৌবাহিনীর ইএ-থ্রি হিসেবে মিশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ট্রোমান খীসা তার স্ত্রী রূপা চাকমা ও দুই কন্যা সন্তান রেখেন যান।