Warning: Undefined variable $preload_un_code in /home/u530650366/domains/hillvisionnews.com/public_html/wp-content/themes/p-paper/template-parts/header.php on line 229

বিশেষ বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ বিরোধী দলের

লেখক: Tanvir Hossain
প্রকাশ: ২ দিন আগে

ত্রাণ বরাদ্দে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় সংসদে। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার সংসদের প্রশ্নোত্তরে এমন অভিযোগ তোলেন রংপুর-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গমের যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের আসনে গেছে। আখতার হোসেন বলেন, দুর্যোগ এ ধরনের বিভাজন করে আসে না। আবার বরাদ্দের টাকাও আসে জনগণের করের টাকা থেকে। এ বৈষম্য দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা– তিনি জানতে চান।
এর জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়; জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের জিআর ক্যাশ এবং জিআর রাইসের বরাদ্দ থাকে। তিনি বলেন, টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা চাহিদাপত্র দিলে সে অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমার মনে হয়, কাল-পরশুর মধ্যে তারা বরাদ্দ পেয়ে যাবেন। এ সময় স্পিকার বলেন, আপনারাও পেয়ে যাবেন।
এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের একই ধরনের প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সব সংসদীয় আসনে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী আসনপ্রতি কাবিটা ২৫ লাখ টাকা, টিআর ৩০ লাখ টাকা এবং কাবিখা (চাল) ২০ টন, কাবিখা (গম) ২০ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অতিরিক্ত বিভিন্ন সংসদীয় আসনে (সরকারি ও বিরোধী উভয়ই) সংসদ সদস্যদের ডিও ও স্থানীয় চাহিদার আলোকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়। 

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, আমার এলাকার মানুষ একদিকে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, অন্যদিকে বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। তিনি কক্সবাজারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সরকার নিয়মিত সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে। বিশেষ বরাদ্দের বিশেষ আবেদন থাকলে সেটা আমরা বিবেচনা করব।
টাঙ্গাইল-৭ আসনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সহায়তা চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শিলাবৃষ্টিতে প্রচুর সংখ্যক মানুষের টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢেউটিন কেনার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বর্তমানে নতুন করে টিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই টিন পাওয়া গেলে যেসব অঞ্চলে শিলাবৃষ্টির কারণে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের আমরা ঢেউটিন দিয়ে সহায়তা করব। 
সিলেট-৬ আসনের সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত সেতু, কালভার্ট ও রাস্তার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নির্মাণকাজ নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জবাবে মন্ত্রী অভিযোগটি সরাসরি মানতে রাজি হননি। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের কাছ থেকেই এসব প্রকল্পের সবচেয়ে বেশি চাহিদা আসে। যদি কোথাও স্পেসিফিক কাজের গুণগত মান খারাপ হয়ে থাকে, তারা আমাদের নোটিশে আনলে সেটা দেখব। মন্ত্রী দাবি করেন, মন্ত্রণালয়ের চার থেকে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্টগুলো টেকসই ও কার্যকর।

  • বৈষম্য