রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রতিবেদক: মো: ফয়সাল
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

​গত ৬ জুলাই থেকে টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে রাঙামাটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

​ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

​প্লাবিত এলাকা: জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু, নানিয়ারচর ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

​গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি: পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে অনেক বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি গৃহপালিত পশু যেমন গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক তাদের গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

​ভূমিধস: গত কয়েক দিনে জেলায় অন্তত ১২৫টি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে রাঙামাটির বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার অংশ ধসে পড়ায় এই উপজেলার সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

​আশ্রয়কেন্দ্র: পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় প্রায় ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

​প্রশাসনের পদক্ষেপ

​ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ: স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থা পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত তিন বেলা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

​পর্যটকদের সতর্কতা সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়া পর্যটকদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

​মনিটরিং: জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

​বর্তমান পরিস্থিতি

​যদিও গত ১০ জুলাইয়ের পর থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে, তবে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে দেরি হওয়ায় অনেক এলাকায় এখনো পানি জমে আছে। সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে, তাই স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।