
মো. জয়নাল আবেদীন, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ৬১০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বৃক্ষের চারা, জৈব সার, বাঁশের খুঁটি, লেবুর চারা, গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় কাপ্তাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষি উপকরণ বিতরণ ও জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম।
এসময় তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, কৃষকরা এসব চারা নিজেদের আঙিনা ও কৃষিজমিতে রোপণ করবেন। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ কৃষিতে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।”
কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ফলের পুষ্টিগুণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ফল চাষের গুরুত্ব বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি নুরুল হক বাচা। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দ জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব জানান, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৪১০ জন কৃষককে জনপ্রতি ৫টি করে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা, ৫টি বাঁশের খুঁটি এবং ৪০ কেজি জৈব সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি সার, ১৫ কেজি এমওপি সার, ৩০টি লেবুর চারা এবং ৩০ কেজি জৈব সার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।