পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, ডুবেছে ঝুলন্ত সেতু

প্রতিবেদক: মো: ফয়সাল
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন। একই সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, এবং বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ।

​ঝুলন্ত সেতু ডুবে গেলেও চলছে চলাচল

​শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পরই কাপ্তাই হ্রদের পানিতে রাঙামাটি পর্যটন ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন প্রায় চার ইঞ্চি নিচে চলে যায়। সেতুটির পাটাতন পানিতে ডুবে গেলেও ঝুঁকি নিয়েই এর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। এমতাবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেতু এলাকায় সতর্কতা জোরদার এবং প্রয়োজনে প্রবেশ সাময়িক বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​বিপৎসীমার কাছাকাছি পানির স্তর

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতভর টানা বৃষ্টির পর শনিবার দুপুরের পরও থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে। এর প্রভাবেই কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে।

​রাঙামাটির কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হ্রদে ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (Mean Sea Level) পানি রেকর্ড করা হয়েছে। পানির উচ্চতা আর মাত্র চার ফুট বাড়লেই কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।

​নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

​হ্রদের পানি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

​পানি নিষ্কাশনে প্রশাসনের উদ্যোগ

​কাপ্তাই হ্রদের পানির ক্রমবর্ধমান উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

​কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার রাত ১০টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে হ্রদ থেকে আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

​পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উজান থেকে ঢল অব্যাহত থাকলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।